টিউশিনির টাকা চাওয়ায় ভৈরবে শিক্ষিকার মাথায় ছাত্রীর মায়ের ১০ কোপ, আঙুল বিচ্ছিন্ন, সারা শরীরে আঘাত
১৯ দিন আগে রবিবার, নভেম্বর ১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে টিউশনির পারিশ্রমিক চাওয়াকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন সিঁথি সীমিতা (২৮) নামে এক স্কুলশিক্ষিকা।
পড়ানো শেষে টাকা চাইলে ছাত্রীর মা ঘরের দরজা ভেতর থেকে আটকে ধারালো দা দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন।
হামলায় শিক্ষিকার মাথায় অন্তত ১০টি কোপ লাগে এবং একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়
সোমবার সকালে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত প্রিয়া বেগমকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
অতঃপর তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, স্থানীয় একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক সিঁথি সীমিতা প্রায় তিন মাস ধরে প্রিয়ার সন্তানকে বাসায় গিয়ে পড়াতেন।কিছুদিন আগে তিনি বকেয়া পারিশ্রমিক দাবি করেন। আর সেই বিরোধের জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার দিন পড়ানো শেষে বের হওয়ার সময় প্রিয়া ঘরের দরজা বন্ধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিক্ষিকার ওপর হামলা চালান। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় পালানোর সুযোগ পাননি সিঁথি। তাঁর মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক কোপ দেওয়া হয়। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে টিউশনির পারিশ্রমিক চাওয়াকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন সিঁথি সীমিতা (২৮) নামে এক স্কুলশিক্ষিকা।
এ ঘটনায় শিক্ষিকার পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যাচেষ্টার মামলা করা হয়েছে। মামলার বাদী শিশু মিয়ার অভিযোগ, এটি শুধু টিউশনির টাকা নিয়ে বিরোধ নয়, বরং স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হামলা।
অভিযুক্তকে মানসিক ভারসাম্যহীন দাবি করে ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ভৈরব থানার পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পেছনে টিউশনির টাকা ছাড়াও অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সব দিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।