সোনার লোভে পাথর ভাঙার চেষ্টা, মিলল ৪৬০ কোটি বছরের মহাজাগতিক সম্পদ

Megna Tv

১২ দিন আগে সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫


#
ছবি : সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার মেলবার্নের কাছে মেরিবোরো রিজিওনাল পার্কে সোনা খুঁজতে গিয়েছিলেন ডেভিড হোল। ২০১৫ সালে হলদে মাটির নিচে লালচে রঙের অস্বাভাবিক ভারী একটি পাথর খুঁজে পান তিনি। ধারণা করেছিলেন, এর ভেতর লুকিয়ে আছে সোনার টুকরো।

সেই বিশ্বাসে পাথরটি বাড়িতে এনে বছর পর বছর চেষ্টা করেছেন সেটি ভাঙার—পাথর কাটার করাত থেকে ড্রিল, গ্রাইন্ডার, অ্যাসিড, এমনকি হাতুড়িও ব্যবহার করেছেন। কিন্তু কোনোভাবেই ভাঙতে পারেননি পাথরটি।

সোনা নয়, আরও দামী জিনিস!

মেরিবোরো অঞ্চলের অতীত সোনার খনি ইতিহাসের কারণে হোল নিশ্চিত ছিলেন—এটি সোনায় ভরা। কিন্তু বহু বছর পর বিশেষজ্ঞদের কাছে নিয়ে গেলে জানা যায়—ওটি সোনা নয়, বরং বিরল একটি লোহা-নিকেলের উল্কাপিণ্ড। বিজ্ঞানীদের মতে, এর মূল্য সোনার চেয়ে অনেক বেশি—জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসের জন্য অমূল্য সম্পদ।

মেলবার্ন মিউজিয়ামের ভূতত্ত্ববিদ ডারমট হেনরি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এর বাইরের দিকে খাঁজকাটা ও দাগযুক্ত যে চেহারা, তা সাধারণ পাথরের হয় না। উল্কাপিণ্ড যখন মহাকাশ থেকে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, বাইরে গলে গিয়ে এমন আকার তৈরি হয়।”

বছরের পর বছর ভাঙতে না পারলেও কৌতূহল থেকে হোল শেষ পর্যন্ত পাথরটি নিয়ে যান মেলবার্ন মিউজিয়ামে।

হেনরি বলেন, “৩৭ বছরের চাকরিজীবনে হাজারো পাথর দেখেছি, যেগুলো মানুষ উল্কাপিণ্ড মনে করে এনেছেন। তার মধ্যে মাত্র দুটো আসল ছিল—এটি তার একটি।”

১৭ কেজি ওজনের মহাজাগতিক অতিথি

পাথরটি হাতে নিয়ে মিউজিয়ামের আরেক ভূতত্ত্ববিদ বিল বার্চ বলেন, “এ ধরনের পাথর যদি সত্যিই পৃথিবীর হতো, তবে এত ভারী হওয়ার কথা নয়।”

গবেষকেরা পরে পাথরটির আনুষ্ঠানিক নাম দেন ‘মেরিবোরো উল্কাপিণ্ড’—যে শহরের কাছ থেকে এটি পাওয়া গেছে। ওজন প্রায় ১৭ কেজি। গবেষণায় জানা যায়, এটি একটি H5 ordinary chondrite—অর্থাৎ প্রচুর লোহা-সমৃদ্ধ প্রাচীন উল্কাপিণ্ড।

হিরার করাত দিয়ে ছোট একটি অংশ কাটার পর দেখা যায় এর ভেতরে রয়েছে সূক্ষ্ম স্ফটিককণা—‘কন্ড্রিউলস’—যা প্রাচীন সৌরজগতের উল্কাপিণ্ডগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য।

সৌরজগতের জন্মকাহিনির সাক্ষী

বিজ্ঞানী হেনরি বলেন, “উল্কাপিণ্ডই হলো সবচেয়ে সস্তা মহাকাশ অনুসন্ধান। এগুলো আমাদের সময়ের গোড়ায় নিয়ে যায়—সৌরজগত, এমনকি পৃথিবী কীভাবে গঠিত হয়েছে, তার সূত্র দেয়।”

তিনি আরও জানান, অনেক উল্কাপিণ্ড পৃথিবীর গভীরতম অংশের গঠন সম্পর্কে ধারণা দেয়। আবার কিছু উল্কাপিণ্ডে থাকে সৌরজগতেরও আগের ‘তারার ধূলিকণা’, যা দিয়ে বোঝা যায়—কীভাবে নক্ষত্র তৈরি হয় এবং কীভাবে মৌল উপাদানগুলো জন্ম নেয়।

আরও বিস্ময়ের বিষয়—কিছু বিরল উল্কাপিণ্ডে পাওয়া যায় অ্যামাইনো অ্যাসিডসহ বিভিন্ন জৈব অণু—যেগুলো জীবন সৃষ্টির ভিত্তিমূল।

বিজ্ঞানীদের মতে, সোনার চেয়েও মূল্যবান এই উল্কাপিণ্ড মানবজাতিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় সৌরজগতের জন্ম-মুহূর্তে—৪৬০ কোটি বছর আগে।










ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

সর্বশেষ

#

সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষী হতাহত

#

ভারতীয় রাজনীতিতে এক চিরস্থায়ী রহস্য সঞ্জয় গান্ধীর মৃত্যু

#

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলাগুলিতে নিহত ২, আহত ৮

#

হামাসের জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

#

সিরিয়ায় আইএসের হামলায় মার্কিন সেনাসহ নিহত ৩

#

সংঘাতের ৬ দিনে থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ায় নিহত ২৩, বাস্তুচ্যুত ৭ লাখ

#

যমুনা ব্যাংক পিএলসি এবং হরাইজন রেমিট এসডিএন বিএইচডি, মালয়েশিয়ার মধ্যে বৈদেশিক রেমিট্যান্স ড্রইং এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর

#

১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে আসামে ‘এয়ার শো’ করছে ভারতীয় বিমানবাহিনী

#

সোনার লোভে পাথর ভাঙার চেষ্টা, মিলল ৪৬০ কোটি বছরের মহাজাগতিক সম্পদ

#

কোরআনের দৃষ্টিতে বনায়ন ও বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব

Link copied