পাঁচ সপ্তাহ পর পতনের পথে স্বর্ণের দর
২৪ দিন আগে বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
আন্তর্জাতিক বাজারে টানা পাঁচ সপ্তাহ দরবৃদ্ধির পর প্রথমবারের মতো সাপ্তাহিক পতনের মুখে পড়েছে স্বর্ণ। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা বাড়লেও পুরো সপ্তাহের হিসাবে তা ২ শতাংশের বেশি কমেছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের শক্তিশালী অবস্থান, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার প্রভাবেই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত এই ধাতুর বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ২,৭২১.১৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে। যদিও সপ্তাহজুড়ে নিম্নমুখী প্রবণতায় এর দর ২ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, আগামী জুনে হস্তান্তরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার দর ০.৪ শতাংশ বেড়ে ২,৭৪০.৯০ ডলারে থিতু হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা থিতিয়ে এলেও হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা কাটেনি। ফলে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। তেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি হয়, যা প্রকারান্তরে সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের মতো সুদমুক্ত সম্পদের জন্য সাধারণত নেতিবাচক বার্তা বয়ে আনে।
সুইস ব্যাংক ইউবিএস-এর বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভোর মতে, একই সঙ্গে ডলারের মান বৃদ্ধি, বন্ডের মুনাফা (ইয়িল্ড) ও তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বর্ণের বাজারে বহুমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইয়িল্ড ১.৫ শতাংশ বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে প্রলুব্ধ করছে।
বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গতিবিধি ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনার ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন। বাজারে এমন গুঞ্জন রয়েছে যে কোনো ইতিবাচক আলোচনার খবর স্বর্ণের দাম আরও কমিয়ে দিতে পারে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা কাটছে না, ততক্ষণ বাজার অস্থির থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
স্বর্ণের দরে সাপ্তাহিক পতন দেখা দিলেও শুক্রবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এদিন রুপার দাম ১.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৭৬.৪৯ ডলারে। এ ছাড়া প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও যথাক্রমে ০.৫ ও ২.২ শতাংশ বেড়েছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্বল্প মেয়াদে স্বর্ণের দাম কিছুটা বাড়লেও বিশ্ব অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি ও ডলারের বিনিময় হার শক্তিশালী থাকায় বিনিয়োগকারীরা এখন বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।