ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নবজাগরণের ভাবনা ও ইকবাল স্মরণ সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠিত
২১ দিন আগে মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
প্রখ্যাত দার্শনিক কবি আল্লামা ইকবালের ৮৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘নবজাগরণের ভাবনা ও ইকবাল স্মরণ সন্ধ্যা এবং ইকবাল বিষয়ক পাঠ প্রতিযোগিতা ২০২৬’ শীর্ষক এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তাযকিরা-ই-ইকবালিয়াত কেন্দ্রের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটগাছের নিচে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও তরুণদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
বক্তারা বলেন, ইকবাল কেবল পাকিস্তানের কবি নন, বরং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কবি, যার চিন্তাধারা নিপীড়িত জাতিগুলোকে জাগ্রত করেছে। ইরানি বক্তা শাহাবুদ্দিন মাশায়েখি বলেন, ইকবালের দর্শন ইরানি তরুণদের ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধে অনুপ্রাণিত করেছে। সামাজিক নেতা আরিফ সোহেল বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশি তরুণদের প্রতিরোধ এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামও ইকবালের চিন্তারই প্রতিফলন। অধ্যাপক ড. কাওসার আবুল আলাঈ জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইকবালের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘The Reconstruction of Religious Thought in Islam’ এবং ‘খুদি’র দর্শন নিয়ে নিয়মিত গবেষণা চলছে।
অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, টিকে থাকার জন্য আমাদের পশ্চিমা সংস্কৃতির পরিবর্তে ইকবালের দর্শনের আলোকে ইসলামী শিক্ষাকে গ্রহণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ মহিরুজ্জামান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. শাহ কাওসার মোস্তফা আবুল আলাঈ (সাবেক চেয়ারম্যান, দর্শন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), ইরানি আলেম ও কবি হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন শাহাবুদ্দিন মাশায়েখি রাদ এবং অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী (উর্দু বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাকির আবু জাফর, মুহাম্মদ তানিম নওশাদ, ড. ফজলুল হক তুহিন, আবদুল কাদের জিলানী এবং আরিফ সোহেল।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘ফিকর-ই-ইকবাল’ গ্রন্থের ওপর ভিত্তি করে পাঠ প্রতিযোগিতা, লাইভ কুইজ এবং কাওয়ালি পরিবেশনা। পাঠ প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রথম পাঁচজন বিজয়ীকে আকর্ষণীয় বই ও সনদ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের কণ্ঠে ইকবালের বিখ্যাত দোয়া পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানটি শেষ হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপ্রিয় ‘সিলসিলা ব্যান্ড’-এর কাওয়ালি পরিবেশনার মাধ্যমে, যেখানে ‘খুদি কা সির-এ নিহাঁ’ এবং ‘হার লহজা হ্যায় মোমিন’ প্রভৃতি পরিবেশনা দর্শকদের উদ্দীপ্ত করে।
আয়োজকরা জানান, তরুণ প্রজন্মের মাঝে ইকবালের চিন্তাধারা ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।