হাজী ইয়াছিনকে মনোনয়নের দাবীতে পূবালী চত্বরে সমর্থকদের অবস্থান
৫ দিন আগে সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
ইবনুল হাসান রায়হান
কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্ঠা হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে তার সমর্থকরা। শনিবার (০৮ নভেম্বর) বিকালে কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় পূর্বালী চত্বরে বিগত ১৭ বছর ধরে মামলা,হামলায় নির্যাতিত বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের ব্যানারে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। হাজী ইয়াছিনের সমর্থকদের এটি ছিল ধারাবাহিক কর্মসূচির ৬ষ্ঠ দিন। যা তার মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে এবং মানবিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দিতে আয়োজন করা হয়েছে বলে আয়েজকরা জানান।
নেতাকর্মীরা জানান, বিগত ১৭ বছর ধরে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা, হামলা, জেল, গুম ও হত্যাকাণ্ডের কারণে সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রায় ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়েছিলো। সেই দীর্ঘ সময়ে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের অব্যাহত সহায়তার দায়িত্ব পালন করেছেন হাজী ইয়াছিন। যেসব পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি জেল খেটেছেন, সেখানে নিজ অর্থায়নে খাবার, চিকিৎসা ও যাবতীয় খরচ পৌঁছে দিয়েছেন। এসব নেতাকর্মীদের আয়োজনে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন হচ্ছে।
সমাবেশে নেতাকর্মীরা বলেন, হাজী ইয়াছিন সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, কোনও প্রচার ছাড়াই। নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যয় করে জেলখরচ, চিকিৎসা, খাদ্যসহ বিভিন্ন খরচ তিনি বহন করেছেন।
মহানগর যুবদলের নেতা মশিউর রহমান সজিব বলেন, হাজী ইয়াছিনের ধারাবাহিক কর্মসূচি শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি মানবিক উদারতার এক অনন্য প্রদর্শনী। তিনি নিজ অর্থ, শ্রম ও সময় দিয়ে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
মানসুর নিজামী নামে মহানগর যুবদল নেতা বলেন, আজও তৃণমূল নেতাকর্মীদের আশা, যে নেতা জীবনের ত্যাগ, মানবিক অবদান এবং নেতৃত্বের যোগ্যতা দিয়ে প্রতিষ্ঠিত, তিনি সংসদে নির্বাচিত হয়ে মানুষের জন্য আরও বেশি কাজ করতে সক্ষম হবেন। এই আশা ও প্রার্থনা আমাদের আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
মহানগর যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এই নেতা আমাদের নির্যাতিত কর্মীর পরিবারের চুলা জ্বলানোর টাকাটা নীরবে পৌঁছে দিতেন। আমরা অনেকে জানতাম না কে পাঠিয়েছে কিন্তু সে সময়ে আমাদের জন্য একজন দেবতার মতো হাজী ইয়াছিন ছিলেন। দলের সকল প্রোগ্রামের ব্যয় মিলাদ, দোয়া, ব্যানার, পোস্টার বা লিফলেট সবই নিজ অর্থে বহন করেছেন। এই মানবিক অবদান আজও তৃণমূল নেতাকর্মীদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছে। ইয়াছিন সংসদে নির্বাচিত হলে মানুষের জন্য আরও বেশি কাজ করতে সক্ষম হবেন। এ নেতার জন্য আমরা রাজপথে বিক্ষোভ করেছি, রোজা রেখেছি, গণ-ইফতার করেছি।
আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ন-আহবায়ক সালাউদ্দিন মিন্টু বলেন, বিগত ১৭ বছরে যারা ১০শ টাকা পকেট থেকে খরচ করেন। এলাকায় আসেননি, তারা অনেকে এখন কেন্দ্রিয় নেতা হয়েছেন। অনেকে ব্যাক্তিগত সম্পর্কে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যাক্তিগত সম্পর্ক থাকলে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ান। তৃণমূল নেতাকর্মীদের হৃদয়ের স্পন্দনকে বঞ্চিত করবেন না।
এ আগে হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনের সূচনায় ০৩ নভেম্বর সোমবার ইয়াছিনের সমর্থকরা রাতে কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরের দিন নগরীর কান্দিরপাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় মর্শাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার অনুষ্ঠিত হয় নারীদের সমাবেশ। বৃহস্পতিবার নেতাকর্মীরা নফল রোজা ও গণ ইফতারের আয়োজন করেন। ৭ নভেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের পর কুমিল্লার বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।