স্মৃতিসৌধে জাতীয় পার্টি ও ছাত্রশক্তির হাতাহাতি, উত্তপ্ত সাভার
১৮ দিন আগে মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় জাতীয় পার্টি (জাপা) ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে স্মৃতিসৌধের মূল বেদিতে ফুল দেওয়ার জন্য লাইনে অপেক্ষা করার সময় এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীর নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা যখন শ্রদ্ধা জানানোর অপেক্ষায় ছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরাও। ছাত্রশক্তির নেতৃত্বে ছিলেন জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক ও সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আহসান লাবীব।
ঘটনার বিষয়ে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ব্যানার ও মিছিল নিয়ে অপেক্ষার সময় একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, উসকানিমূলক পরিস্থিতিতেও তাদের কর্মীরা ধৈর্য্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। তবে এই ঘটনায় জাপার একজন নেতা আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।
অন্যদিকে, জাতীয় ছাত্রশক্তি এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে। সংগঠনের নেতা আহসান লাবীব জানান, জাতীয় পার্টির স্লোগানের বিপরীতে ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে ‘মুজিববাদের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’ স্লোগান দেওয়া হলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তাদের দাবি, জাপার এক নেতা প্রথমে ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতা নাঈম আবেদিনের ওপর হামলা চালালে সাধারণ কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে জাপার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন।
জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গণমাধ্যমকে বলেন, কারা এই হামলা করেছে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। তবে আমাদের বিশ্বাস, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না এবং একাত্তরবিরোধী চেতনা ধারণ করে, তারাই এই পবিত্র স্থানে এ ধরনের অপকর্ম করতে পারে। তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচনে একটি নীল নকশার মাধ্যমে জাতীয় পার্টিকে সংসদ থেকে দূরে রাখা হয়েছে, তবে জনগণের দল হিসেবে জাপা বারবার ফিরে আসবে।
অন্যদিকে, স্মৃতিসৌধ এলাকায় এ নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ উত্তেজনা বিরাজ করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক।