রাস্তিতে গশাহভীর রাতে ডাকাতি: গৃহবধূ নিহত, আহত আরেক নারী; রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম

Megna Tv

১৫ দিন আগে বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬


#
সিদ্দিকুর রহমান নয়ন:

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় গভীর রাতে একটি বাড়িতে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় রিগান আক্তার মিম (২৬) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ সময় ডাকাতদের হামলায় আহত হয়েছেন একই পরিবারের আরেক গৃহবধূ কাজী সুমাইয়া আক্তার (২৪)। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে শাহরাস্তি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাত্তলা গ্রামের বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিগান আক্তার মিম ওই গ্রামের মৃত সেলিম বেপারীর পুত্রবধূ। তিনি আড়াই বছর বয়সী কন্যা সাইফা ও চার মাস বয়সী ছেলে সিরাজের জননী। তাঁর স্বামী রনি ঢাকায় চাকরি করেন। ঘটনার সময় বাড়িতে দুই গৃহবধূ, পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম এবং তিনটি শিশু অবস্থান করছিল।

আহত গৃহবধূ কাজী সুমাইয়া আক্তার জানান, রাত ১২টার দিকে তিন মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে মুখ বাঁধা দুই ব্যক্তি ছুরির মুখে তাঁকে ও তাঁর শিশুকে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র দাবি করে। তিনি আলমারিতে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে যেতে বললে ডাকাতরা তাঁর ওড়না দিয়ে হাত বেঁধে ফেলে এবং হাতুড়ি দিয়ে মাথায় দুই দফা আঘাত করে। পরে তাঁর কানের দুল, আলমারিতে থাকা আরেক জোড়া দুল ও একটি আংটি নিয়ে পাশের কক্ষে প্রবেশ করে। তিনি জানান, পাশের কক্ষ থেকে বড় জায়ের কান্নার শব্দ শুনলেও বাঁধা অবস্থায় তাঁকে সাহায্য করতে পারেননি।

পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, রাতে তিনি বাড়ির লোহার গেটে তালা লাগিয়ে চাবি টেবিলের ওপর রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। চিৎকার শুনে জেগে উঠে গেট খুলতে গিয়ে দেখেন, গেটটি ভেতর থেকে আটকানো থাকলেও তালাটি নেই। পরে বাড়ির বাইরে অক্ষত অবস্থায় তালাটি পাওয়া যায়।

প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন জানান, মিমের ঘর থেকে আর্তচিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ঘরের ভেতর ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে জানালায় ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাননি। ডাকাতির সন্দেহ হলে তিনি আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। পরে মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়ার ঘোষণা দেওয়া হলে স্থানীয়রা বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। পূর্ব পাশের একটি জানালার কপাট খোলা দেখতে পেয়ে ভেতরে তাকিয়ে মিমকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে গেট খুলে ঘরে প্রবেশ করলে ছোট গৃহবধূকে বাঁধা অবস্থায় এবং অপর কক্ষে মিমকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল। স্থানীয়রা ওড়না খুলে তাঁকে জাগানোর চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। পরে ঘটনাস্থলে আসা চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে নিহতের বাবা-মা, ভাই-বোন ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। দুই শিশু সন্তানকে বুকে জড়িয়ে তাঁদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

ঘটনার খবর পেয়ে শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান এবং কচুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল হাই চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ আলামত সংগ্রহ করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়।

শাহরাস্তি থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।"

কচুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল হাই চৌধুরী বলেন, "ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  
Link copied