খামেনির জানাজা আজ, হত্যার নিন্দা জানাল বাংলাদেশ

Megna Tv

৮ দিন আগে মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬


#
ছবি: সংগৃহীত

চার মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফনকে ঘিরে নজিরবিহীন আয়োজন শুরু হয়েছে। ইরান ও ইরাকের পাঁচটি শহরজুড়ে ছয় দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণের আশা করছে তেহরান। আলজাজিরা, এএফপি ও সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় জানাজায় পরিণত হতে পারে। এ জন্য সরকারি কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, বিশ্ববিদ্যালয়, শ্রমিক সংগঠন, ত্রাণকর্মী এবং ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে যুক্ত করে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তার এ হত্যাকাণ্ডের পর শুধু ‘শোক ও দুঃখ’ প্রকাশ করলেও চার মাস পর শেষকৃত্যের সময়ে এসে নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার তেহরানে ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফের সঙ্গে সাক্ষাতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের এ অবস্থান তুলে ধরেন।

দুই স্পিকারের সাক্ষাতের খবর দিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘মহামান্য’ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ‘মর্মান্তিক মৃত্যুতে’ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন এবং তার ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নিন্দা’ জানিয়েছেন। জাতীয় শোকের এ সময়ে ইরানের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সহমর্মিতা জানিয়েছেন তিনি।

আজ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদ কমপ্লেক্সে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খামেনির মরদেহ রাখা হবে। সোমবার রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে অনুষ্ঠিত হবে বিশাল শোকযাত্রা। পরদিন মঙ্গলবার মরদেহ নেওয়া হবে পবিত্র নগরী কোমে। বুধবার কর্মসূচি সীমান্ত পেরিয়ে ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় পৌঁছাবে। এরপর বৃহস্পতিবার খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারে তার লাশ দাফন করা হবে।

গতকাল থেকেই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে খামেনির কফিনের সামনে ভিড় করতে শুরু করেন শোকাহত মানুষ। মাশহাদের ইমাম রেজার মাজার থেকে আনা একটি লাল পতাকা তার কফিনের ওপর স্থাপন করা হয়েছে, যা শিয়া ঐতিহ্যে শহীদত্ব ও প্রতিশোধের প্রতীক। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নতুন প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি দীর্ঘদিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকার পর বৃহস্পতিবার রাতে খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই তার প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি।

বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির জানাজা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং ইরানি রাষ্ট্রের শক্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবেও তুলে ধরতে চাইছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, এই শোকযাত্রা বিশ্বকে দেখাবে যে, ইরান নিপীড়নের সামনে মাথানত করে না এবং তাদের নেতার রক্তের বিচার ভুলে যাবে না। মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দোহায় চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ আলোচনা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে, যাতে কূটনীতিক ও আলোচকরা এই আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে পারেন।

জানাজা উপলক্ষে তেহরানে ২ হাজার ৫০০ অ্যাম্বুলেন্স, ২১টি হেলিকপ্টার, ১০০টি ড্রোন এবং হাজারো উদ্ধারকর্মী মোতায়েন রাখা হয়েছে। রাজধানীর বিমানবন্দরগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে এবং ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। শোকাহত মানুষের খাবারের জন্য ৫ কোটি রুটি তৈরির পরিকল্পনাও নিয়েছে সরকার। এ কাজে তেহরানে মোবাইল বেকারি মোতায়েন করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্র সমর্থিত সংবাদ সংস্থা আইআরআইবির তথ্যমতে, শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া সাবেক ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির জানাজায় ১০০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পশ্চিমা কোনো রাষ্ট্রকে আমন্ত্রণ জানানো না হলেও আটজন রাষ্ট্রপ্রধান ও ১২ জন পার্লামেন্ট স্পিকার অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিক এই আয়োজন কভার করবেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার শুরুতে নিজ বাসভবনে নিহত হন খামেনি। ব্যাপক হামলার মধ্যে ইরানও পশ্চিম এশিয়ার আরব দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। মার্কিন ঘাঁটি থাকার কারণে ওই দেশগুলোকে হামলার ‘বৈধ টার্গেট’ হিসাবে বর্ণনা করে তেহরান।

সে সময় বাংলাদেশের অবস্থান ঘিরে সমালোচনা হয়। হামলা শুরুর পরদিন এক বিবৃতিতে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানালেও তাতে ইরানের ওপর হামলার প্রসঙ্গ রাখেনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিসহ শীর্ষ নেতাদের হত্যার বিষয়েও কিছু বলা হয়নি তখন ওই বিবৃতিতে।

এ নিয়ে সমালোচনার মুখে ২ মার্চ আরেক বিবৃতিতে খামেনির মৃ্ত্যুতে ‘মর্মাহত’ হওয়ার কথা বলে ঢাকা। তবে সেখানে তাকে হত্যার নিন্দা জানানো হয়নি।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  
Link copied