কক্সবাজারে আজ বাজবে রেলের বাঁশি
১১ দিন আগে শুক্রবার, জুন ১৯, ২০২৬
উদ্বোধনের অপেক্ষায় কক্সবাজারের আইকনিক রেলস্টেশন।
কক্সবাজার সদরের ঝিলংজার চান্দেরপাড়ায় নির্মিত দৃষ্টিনন্দন আইকনিক স্টেশন ও রেলপথ উদ্বোধনের প্রহর গুনছে কক্সবাজারবাসী। শনিবার (১১ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সুধী সমাবেশে বক্তব্য শেষে রেলপথের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রেলপথ ও স্টেশন উদ্বোধন উপলক্ষে আইকনিক রেল স্টেশন এলাকা সেজেছে বর্ণিল সাজে। কক্সবাজার শহর ও রেলস্টেশন এলাকায় নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সকাল ৮টা থেকে আমন্ত্রিত অতিথিরা সমাবেশস্থলে আসা শুরু করেছে। দু'সহস্রাধিক সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময়ের আয়োজন করেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন সংস্থা।
তথ্য মতে, বেলা সোয়া ১১টায় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবীর। এছাড়াও বক্তব্য রাখবেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকায় দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। আগামী বছরের জুন পর্যন্ত এই প্রকল্পের মেয়াদ থাকলেও তার আগে ডিসেম্বরের দিকে পুরোপুরি কাজ শেষ হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর আগামী জানুয়ারিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে বাণিজ্যিকভাবে চলবে ট্রেন। এতে বদলে যাবে কক্সবাজারের যোগাযোগ ব্যবস্থা। পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে ঘুরবে অর্থনীতির চাকা। স্থাপিত হবে শিল্প কারখানা, বাড়বে উদ্যোক্তর সংখ্যাও। দেশি বিদেশি পর্যটকের সংখ্যাও বাড়বে বহুগুণ। গতি বাড়বে টেকনাফ স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেরও।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রেলপথ সচল হলে সবদিক দিয়ে ঘুরে যাবে কক্সবাজার অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চাকা।
কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা এলাকায় ২৯ একর জমিতে নির্মিত হয়েছে ছয়তলা ভবনের আইকনিক রেলস্টেশন। ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩৭ বর্গফুট আয়তনের এই রেলস্টেশন ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৫ কোটি টাকা। ঝিনুকের আদলে তৈরি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত এই স্টেশনে রয়েছে তারকা মানের হোটেল, রেস্তোরাঁ, লকার, শপিং মলসহ বিশ্বমানের সব সুবিধা। উদ্বোধন উপলক্ষে ভবনের চারপাশের রঙের শেষ আঁচড় লাগানোর কাজও শেষ হয়েছে। ভ্রমণে আসা যাত্রীরা চাইলে রাতের ট্রেনে ঢাকা থেকে সকালে কক্সবাজার পৌঁছে মালামাল লকারে রেখে সারা দিন সৈকত ঘুরে রাতের ট্রেনে পুনরায় ঢাকায় ফেরার সুযোগ পাবেন।