উৎপাদন ব্যয় কমাতে কর সংস্কারের দাবি সিমেন্ট খাতের

Megna Tv

২০ দিন আগে মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬


#
সংগৃহীত ছবি

দেশীয় সিমেন্ট শিল্পের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ কর সংস্কারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাস্টুরেরস অ্যাসোসিয়েশন। এ লক্ষ্যে বুধবার সংস্থাটি এনবিআরের কাছে প্রাক-বাজেট প্রস্তাব জমা দিয়েছে।

বিসিএমএ প্রস্তাবে সিমেন্টের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকারের ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে প্রতি মেট্রিক টনে নির্ধারিত ৫০০ টাকা করার সুপারিশ করেছে। তাদের দাবি, এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

এছাড়া ক্লিংকার, স্ল্যাগ, লাইমস্টোন ও জিপসামের মতো কাঁচামালের ওপর অগ্রিম আয়কর (এআইটি) বর্তমান ২ থেকে ৫ শতাংশের পরিবর্তে সমানভাবে ০.৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিসিএমএ বলছে, এতে সাশ্রয় হওয়া অর্থ উৎপাদনে পুনর্বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে।

সংস্থাটি আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর অগ্রিম কর (এটি) ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করারও দাবি জানিয়েছে। এতে বিদেশি কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল উৎপাদকদের আর্থিক চাপ কমবে এবং সিমেন্টের দাম প্রতিযোগিতামূলক রাখা সহজ হবে।

লাইমস্টোনের ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক (এসডি) প্রত্যাহারের প্রস্তাবও দিয়েছে বিসিএমএ। তাদের মতে, এই শুল্ক উৎপাদন ব্যয় অযৌক্তিকভাবে বাড়াচ্ছে, যা প্রত্যাহার করলে নির্মাণ খাতে সিমেন্টের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।

রপ্তানিকৃত সিমেন্টের ক্ষেত্রে ডিউটি ড্র-ব্যাক প্রক্রিয়া সহজ করতে ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইনের বিধান পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। এতে রপ্তানিতে শুল্ক ফেরত পাওয়া সহজ হবে এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা বাড়বে।

এছাড়া সিমেন্ট খাতে প্রতি টন ভিত্তিতে অভিন্ন ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছে বিসিএমএ, যা প্রশাসনিক জটিলতা কমাবে এবং কর ব্যবস্থায় সমতা নিশ্চিত করবে।

সিমেন্ট উৎপাদন যন্ত্রপাতির খুচরা যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে, যা রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমিয়ে উৎপাদন দক্ষতা বাড়াবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

বিসিএমএ বলছে, এসব সংস্কার বাস্তবায়িত হলে উচ্চ উৎপাদন ব্যয় ও কর জটিলতা কমবে, স্থানীয় উৎপাদকরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে এবং অবকাঠামো ও আবাসন খাতে বাড়তে থাকা চাহিদা পূরণ সহজ হবে। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় কমলে সিমেন্টের দামও কমবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে।

সংস্থাটি এনবিআরকে এসব প্রস্তাব গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে সিমেন্ট খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়।

বিসিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, অবকাঠামো খাতের সম্ভাবনা বিবেচনায় শিল্পটি ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে এবং প্রায় ১০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন বার্ষিক স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করেছে।

এর মধ্যে কার্যকর উৎপাদন সক্ষমতা ৮২ মিলিয়ন মেট্রিক টনের বেশি। তবে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ২০২৫ সালে সিমেন্ট উৎপাদন ৪০ মিলিয়ন মেট্রিক টন অতিক্রম করেনি, যা কার্যকর সক্ষমতার ৫০ শতাংশেরও কম এবং টেকসই অবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ৬০-৬৫ শতাংশ মানদণ্ডের অনেক নিচে।

ক্রমবর্ধমান সুদের হার, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সংঘাতজনিত অর্থনৈতিক ধীরগতির প্রভাব শিল্পটির সংকট আরও বাড়িয়েছে।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  
Link copied