অতীতে নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন ডা: প্রাণ গোপাল

Megna Tv

১৯ দিন আগে বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬


#
চান্দিনায় সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার প্রয়াত অধ্যাপক আলী আশরাফের সন্তান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চান্দিনা আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুনতাকিম আশরাফ টিটু।

স্টাফ রিপোর্টার ।।

 

কুমিল্লা ২৫৫ (চান্দিনা) আসনে বিনাভোটে আওয়ামীলীগ থেকে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর মামলা, হামলা ও নির্যাতন শুরু করেছে ডা: প্রাণ গোপাল। স্থানীয় ইউপি নির্বাচন, জেলা পরিষদ নির্বাচন ও পৌরসভা নির্বাচনেও আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন তিনি।

 

বিএনপি’র মামলায় আওয়ামীলীগের প্রায় ২০ এর অধিক নেতা মামলায় জড়িয়েছেন তিনি। উপজেলা আওয়ামীলীগ, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও পৌরসভা আওয়ামীলীগের অনেক নেতা এখনো মামলার হাজিরা দিচ্ছেন। এছাড়ায় কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানকেও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী ও ধর্ষন মামলা দিয়েছেন তিনি।

শনিবার ( ২ ডিসেম্বর) ২৩ইং সকালে চান্দিনায় সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন সাবেক সংসদ  সদস্য সাবেক ডেপুটি স্পিকার প্রয়াত অধ্যাপক আলী আশরাফের সন্তান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চান্দিনা আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুনতাকিম আশরাফ টিটু।

 

তিনি আরো বলেন, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নির্দেশ মেনে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেয়ায় আমার কর্মীদের বিরুদ্ধে নানান হয়রানী ও ভয়ভীতি দিয়ে হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। আমি নির্বাচন কমিশন, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহীকে লিখিত ভাবে জানাচ্ছি সুষ্ঠ নির্বাচন করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

  •  

আপনার জানেন আমার বাবা ইন্তেকালের পর শূন্য হওয়া আসনে আমি দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু আমি দলীয়  মনোনয়ন পাইনি। আমার শেষ আশ্রয়স্থল হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক মহান স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার শ্রদ্ধেয ডাক্তার অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত চাচাকে মনোনয়ন দেন।

আমিও দলীয় নেত্রীর সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা আস্থা রাখি। এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আমি আবারো দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। দল আবারো প্রান গোপাল চাচাকে নৌকার মনোনয়ন দেয়। পরে আমাদের দলীয় প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন  করার সুযোগ করে দেন। সেই কারণে এলাকার স্থানীয় আওয়ামী লীগ  এবং  এর অঙ্গ  সংগঠনেট নেতাকর্মীদের অনুরোধে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করি। এরপরে শুরু হয় নানারকম ষড়যন্ত্র। আমার নেতা কর্মীদের বিভিন্ন পরিচয়ে ডেকে নিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তাদেরকে আমার বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য বলা হচ্ছে। আমার পক্ষে যারা এক পারসেন্ট ভোটার হিসেবে স্বাক্ষর প্রদান করেছেন তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে। তাদের দেওয়া স্বাক্ষর তাদের নয় বলে বলতে বাধ্য করা হচ্ছে। যাতে আমার প্রার্থিতা বাতিল করতে সহজ হয়।

 

গতকাল সারাদিন উপজেলার বারেরা, গল্লাই সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের একজন ম্যাজিস্ট্রেট জন পুলিশ বিভিন্ন ভোটারের বাড়িতে গিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন। 

এখনো প্রতীক বরাদ্দ হয়নি। শুরু হয়নি আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। এর আগেই  কুমিল্লা- (চান্দিনা) সংসদীয় আসনে আমার লোকজনের উপর হয়রানি হামলা ভয়-ভীতি প্রদর্শন শুরু হয়েছে।  আমার  পক্ষে কাজ করায় মহিচাইল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মফিজুল ইসলামের উপর হামলা করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে সময় তাকে মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়। স্থানীয় মানুষ ছুটে আসায় মফিজুল ইসলাম প্রাণে রক্ষা পায়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হুমকি প্রদান, আমার লোকজনের ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট বন্ধ করা, বিভিন্ন পরিচয়ে ডেকে নিয়ে আমার সঙ্গ ত্যাগ করার জন্য হুমকি প্রদান অব্যাহত রয়েছে , এভাবে সুষ্ঠু প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচন সম্ভব নয়।

 

বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী  হিসেবে  আমি মুনতাকিম আশরাফ টিটু মনোনয়নপত্র দাখিল করি। আওয়ামী লীগ নেতা মফিজুল ইসলাম ওই  সময় উপস্থিত ছিলেন। পরে মফিজুল ইসলাম বাড়ি ফেরার পথে যখন কেরনখাল ইউনিয়নের ডুমরিয়া ব্রিজ পার হচ্ছিলেন তখন শাহজাহানের নেতৃত্বে আরো / জন মফিজুল ইসলামের উপর অতর্কিত হামলা করে। সময় তাকে হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়। পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করারও চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয়রা ছুটে আসায় হামলাকারিরা চলে যায়। মফিজুল ইসলামের পরিবার এখন আতংকে রয়েছেন। 

 

এর আগে নভেম্বর চান্দিনার মহিচাইলে আওয়ামী লীগের শান্তি মিছিল করার প্রাক্কালে এমপি প্রাণ গোপাল মুঠোফোনে এই আওয়ামী লীগ নেতা মফিজুল ইসলামকে হুমকি দেন। ওই সময় সাংসদ ডা. প্রাণ গোপাল মুঠোফোনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মফিজুল ইসলামকে বলেন-টিটুর (চান্দিনা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুন্তাকিম আশরাফ টিটু) কি মিছিল বের করতাছো মহিচাইল বাজারে ? তখন মফিজুল ইসলাম উত্তরে বলেন- টিটুর না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মিছিল বের করতাছি। তখন এমপি প্রাণ গোপাল আবার বলেন- মিছিলে টিটুর নাম উচ্চারিত হয়, একবারও যাতে না শুনি। টিটুর নামে যদি কোন শ্লোগান হয়, তাহলে এটার জবাব আমি তোমার কাছ থেকে নিবো। এটা আমার শেষ কথা। টিটুর নামে কেন শ্লোগান দিবা ? তখন মফিজুল ইসলাম বলেন- টিটু তো আওয়ামীলীগ করে, আমি আওয়ামী লীগ করি এবং আপনি আওয়ামী লীগ করেন। আমি এখনো দলেই আছি। আমার অপরাধটা কি ? তখন এমপি ডা. প্রাণ গোপাল রাগান্বিত হয়ে বলেন- অপরাধটা টের পাইবি, টের পাইবি, আমি আসতাছি কিছুক্ষণ পরেই। এই বলে ফোন কেটে দেন এমপি ডা. প্রাণ গোপাল।

 

এছাড়া মফিজুল ইসলামের উপর হামলার নেতৃত্বদানকারি শাহজাহানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের  স্ট্যাটাস এলাকাজুড়ে আতংক ছড়িয়েছে। শাহজাহানের ফেসবুক স্ট্যাটাস হল: “ দিন সময় যারা আওয়ামী লীগ করেন, বরকইট ইউনিয়নের নৌকার পক্ষে কাজ শুরু করেন, না হয় ভয়াবহ অবস্থা হবে

 

এদিকে উপজেলার বাতাঘাষি ইউনিয়নে মুন্তাকিম আশরাফ টিটুর অনুসারি ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ ক্রিকেট টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন করায় খেলা বন্ধ করে দেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রশাসন নিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। জুয়া-মাদক বন্ধ না করে খেলা বন্ধ করার বিষয়টি সর্বমহলে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সরব রয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। 

 

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এমপি প্রাণ গোপাল চান্দিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চান্দিনা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুন্তাকিম আশরাফ টিটু দুইজনেই আওয়ামী লীগ করেন। আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন যারা পায় নি, তাদের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থীর পথ খোলে দিয়েছেন। তিনি একটি স্বচ্ছ, অবাধ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ  নির্বাচন চান। তাই মুন্তাকিম আশরাফ টিটুও স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি তো বিএনপি-জামায়াত না। টিটু সাহেবের পিতা প্রয়াত সাংসদ অধ্যাপক আলী আশ্রাফ কয়েক যুগ এই চান্দিনার সেবা করেছেন। আমরা তার অনুসারি। এটা কি আমাদের দোষ। এভাবে হামলা-হুমকি দিলে তো সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ থাকবে না। আমাদের মনে হয় না এখানে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে আমাদের অনেককে টিটুর পক্ষে কাজ না করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে এখনো প্রতীক বরাদ্দ হয়নি, প্রচারণা  শুরু হয়নি। এমন অবস্থা বিরাজ করলে সুষ্ঠু নির্বাচন কোনভাবেই সম্ভব না। আমরা নির্বাচন কমিশন প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

 

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  
Link copied