সড়কে নিয়ম ভাঙার মহোৎসব, যানজটে অতিষ্ঠ নগরবাসী
৬ দিন আগে সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত
৫ সেপ্টেম্বর দুপুর দুইটা। রাজধানীর মেরুল বাড্ডা ইউলুপ এলাকায় তীব্র যানজট। প্রায় ৪০ মিনিট স্থির দাঁড়িয়ে থাকার পর গাড়ি চলা শুরু হলো। দুই মিনিট গাড়ি চলার পরে ফাঁকা রাস্তা। মানে সেখানে কোনো যানজট নয়, পাবলিক বাস সার্ভিসের সঙ্গে ব্যাটারিচলিত রিকশার মধ্যে বিবাদ লেগেছিল। মাঝ রাস্তা দিয়েই চলছে ব্যাটারিচলিত রিকশা! আবার পাবলিক বাসগুলোও যেখানে-সেখানে থামাচ্ছে।
ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের এসময় বিশেষ কোনো ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। বাইকার, রিকশাচালক যে যেভাবে পারছে সেভাবে যানজট সৃষ্টি করছে। কড়া হতে পারছেন না সড়কে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক সদস্যরা। উল্টো তারা বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ।
রাজধানীর আসাদগেট, মহাখালী, শাহবাগ, গুলিস্তান, প্রগতি সরণিসহ অধিকাংশ এলাকায় দিনে কিংবা রাতে সড়কের চিত্র এমন। কোথাও একবার যানজট লেগে গেলে তা ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও কমছে না। প্রগতি সরণির নতুনবাজার থেকে কুড়িল বিশ্বরোড যেতেই প্রতিদিন দেড় ঘণ্টা পার হয়ে যায়। অথচ এটি সর্বোচ্চ ১০ মিনিটের পথ। রাত ১১টার পরও এ সড়কে যানজট লেগেই থাকে। এ অবস্থায় ঢাকার সড়কে চলাচলকারীদের রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠছে।
শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর সবচেয়ে বেশি তোপের মুখে পড়েন পুলিশ সদস্যরা। টানা ছয়দিন সড়কে ছিল না ট্রাফিক পুলিশ, এসময় রাজধানীর প্রতিটি সড়কে দিন-রাত পুরোদমে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা ফিরলেও সড়কে ফেরেনি শৃঙ্খলা। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত অব্দি যানজটে নাকাল হচ্ছে নগরবাসীর।
নিয়ম ভাঙার মহোৎসব
ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা বলছেন, প্রতিদিন যারা সড়ক ব্যবহার করছেন তারাই নিয়ম ভঙ্গ করছেন।
এক শ্রেণির মানুষ প্রতিনিয়ত আমাদের উদ্দেশ্যে বুলিং করছে। যত্রতত্র পার্কিং, সড়কের
পাশে হকার, উল্টোপথে গাড়ি চালানো ও সিগন্যাল অমান্য করে আগে যেতে চাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে
নিয়ম ভঙ্গ করছেন মানুষ। শিক্ষার্থীরা যে ছয়দিন সড়কে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করেছিল
তখন ভয়ে কেউ নিয়ম ভাঙতো না। সেই ভয়টা কেন যেন মানুষের মনে কাজ করছে না! এজন্য সকাল
থেকে রাত পর্যন্ত সড়কে যানজট লেগে থাকছে।
গত ২৭ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরে উল্টো পথে প্রাডো গাড়ি চলতে বাধা দেওয়ায় এক ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবলকে মারধর করেন সোহরাব হোসেন নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় রফিকুল আলম নামে এক গাড়িচালককে গ্রেফতার করে পুলিশ। আহত পুলিশ কনস্টেবলকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আর সড়ক ব্যবহারকারীরা বলছেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সড়কে ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করেছিল এখন সেভাবে দায়িত্ব পালন করছে না। বেশিরভাগ সময় তারা খোশগল্পে মত্ত থাকেন। সিগন্যাল অমান্য করলেও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। আগে দুপুরে দিকে যানজট হতো খুব কম, কিন্তু এখন দুপুর বেলাতেও কিছু কিছু সড়কের যানজট লেগেই থাকছে।
NP/JM24