পিছিয়ে পড়া গ্রাম এখন মডেল ভিলেজ

Megna Tv

২৫ দিন আগে মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬


#
মডেল গ্রাম

বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হলো সাঁওতাল সম্প্রদায়। এই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একটি অংশ বসবাস করে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড় সাঁওতাল পাড়া নামক গ্রামেই তাদের বসবাস।

আর খাগড়াছড়ির সেই পিছিয়ে পড়া জাতি সাঁওতাল সম্প্রদায়কে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানামুখী সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। আধুনিক গ্রাম গঠনে এমন কোনো অংশই বাকি নেই এই গ্রামে। ফলে নতুনত্বে ফিরেছে গ্রাম, পরিচিতি পেয়েছে মডেল ভিলেজ হিসেবে।

কিছুদিন আগেও যাদের ছিলোনা মাথা গোঁজার ঠাঁই, ছিলোনা পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা, ছিলোনা পান করার মতো বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, আজ সেই গ্রাম পরিপূর্ণতা পেয়েছে মডেল ভিলেজ হিসেবে। কী নেই এই গ্রামে।

৭৮ পরিবারের মাঝে সরকারিভাবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়েছে ২৭টি পরিবার। এবং জেলা পরিষদ, ইউএনডিপি, রেড ক্রিসেন্ট ও উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় এ এলাকার প্রত্যেকটি ঘরে তৈরি করে দেওয়া হয়েছে স্যানিটারি ল্যাট্রিন। রয়েছে সোলার প্যানেলের সাহায্যে পানি তোলার ব্যবস্থা। যার সংযোগ রয়েছে প্রত্যেকটি বাড়ির আঙ্গিনায়। ২০টি পরিবারকে দেওয়া হয়েছে গবাদি পশু, রয়েছে শিশুদের পাশাপাশি বয়স্ক শিক্ষারও ব্যবস্থা আর কাঁচা রাস্তা থেকে এখন পরিপূর্ণ ইট-সোলিং। তাদের রয়েছে নিজস্ব ভাষা ‘সাঁওতালি বর্ণমালা’। গ্রামে রয়েছে পাঠাগার। রয়েছে কৃষিজ জমি, বাড়ির এক কোণে জৈব সার তৈরির অবকাঠামো, রয়েছে মৌ-চাষের সামগ্রী।

খাগড়াছড়ির উপকারভোগী জুনিয়া সাঁওতাল বলেন, একসময় বৃষ্টি এলে রাতে ঘুমাতে পারতাম না, ঘরে বৃষ্টি পড়তো। আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে একটি ঘর উপহার দেওয়ায় নিশ্চিন্তে জীবনযাপন করছি। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমরা চির কৃতজ্ঞ।

এলাকার পাঠাগার সম্পাদক আকাশ সাঁওতাল বলেন, উন্নয়ন বোর্ড, ইউএনডিপি, রেড ক্রিসেন্ট, পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং উপজেলা পরিষদ সহযোগিতা করায় আমরা এখন নির্বিঘ্নে এলাকায় চলাচল করতে পারি। এক সময় অসুস্থ রোগীকে কাঁধে বয়ে নিয়ে যেতে হতো। এখন গাড়ি আমাদের ঘরের সামনে পৌঁছায়।

মডেল ভিলেজ সভাপতি মিলন সাঁওতাল বলেন, সরকারসহ বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় এখন আমরা স্বাবলম্বী। আগামীতেও এমন সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আমরা আরও উন্নত জীবনযাপন করতে পারবো।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  
Link copied