হাদিকে গুলি করেছে ‘দাউদ খান’!
১০ দিন আগে বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২২, ২০২৬
শরিফ ওসমান হাদি ও ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান (ফাইল ছবি)
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় জড়িত একজনকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। আজ শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ডিএমপি থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। যে ছবিটির সঙ্গে সাবেক ছাত্রলীগ (নিষিদ্ধ সংগঠন) নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের হুবহু মিল রয়েছে।
পুলিশ ওই বিজ্ঞপ্তিতে তার ছবি প্রকাশ করে অভিযুক্ত ব্যক্তির সন্ধানদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং তাকে উপযুক্ত পুরস্কৃত করা হবে বলে জানিয়েছে।
থমথমে এই পরিস্থিতিতে গত দুই দিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একই ইস্যুতে বেশ কয়েকটি পোস্ট করেছেন কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের।
আজ শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ভোর ৪টা ৭ মিনিটে নিজের প্রোফাইলে তিনি লিখেছেন, বহুরূপী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান কিভাবে ওসমান হাদির ইনার সার্কেলে ঢুকে গিয়েছিল, সেটা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। আপনি নিজেকেই জিজ্ঞাসা করুন, এই সবগুলো ছবি যে একই ব্যক্তির, সেটা আপনারা কতজন চিহ্নিত করতে পারতেন?
সাধারণ পরিবারের একটা ছেলে আজ মৃত্যুশয্যায়, মহান আল্লাহর কৃপায় আবার পূর্ণ শক্তিতে ফিরে আসুক সেটাই প্রার্থনা করি। অন্তত তাকে আমরা সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকি।
এর আগে মধ্যরাত ৩টা ৯ মিনিটে জুলকারনাইন সায়ের লিখেছিলেন, যারা দাবি করছেন ওসমান হাদিকে গুলি করার সাথে জড়িত নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের কোন সম্পর্ক নেই।
তাদের কাছে প্রশ্ন, ছাত্রলীগের সাথে সম্পর্ক নেই বা সংশ্লিষ্টতা নেই কিন্তু বর্তমান রাষ্ট্রপতির পুত্র, তৎকালীন রাষ্ট্রপতির বাসভবনে ঢুকে তার সাথে ছবি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ঠিক কতজন সাধারণ মানুষের ছবি তোলার সুযোগ হয়েছে?
তবে এই রিপোর্ট লেখার প্রায় দুই ঘণ্টা আগে সকাল ৯টা ১৪ মিনিটে নিজের সবশেষ পোস্টে আল-জাজিরার এই অনুসন্ধানী সাংবাদিক জানান, ইনকিলাব মঞ্চের সংগঠক ওসমান হাদিকে কারা গুলি করেছে সেটার রহস্য শক্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে। অবশিষ্ট যা আছে সেটাও প্রকাশ পাবে, ইনশাআল্লাহ।
এই গুলিবর্ষণের ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই দেশের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের উদ্বিগ্ন করেছে। আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত নিষিদ্ধ চক্র ও তাদের আশ্রয়দাতারা সম্মিলিতভাবে এরকম আরও কয়েকটি ঘটনা ঘটাতে সক্ষম হলে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ক্ষেত্র ঝুঁকির সম্মুখীন হবে এবং অশুভশক্তি ঠিক এমনটা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই তাদের মরণকামড় বসিয়েছে।
সকল রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের এখনি জাতীয় স্বার্থে এরকম দুরভিসন্ধিমূলক বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেয়া জরুরি। তাঁদের ও জনগণের ঐক্যের বার্তাই কেবল নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মনোবল দৃঢ় রাখতে পারে এবং জাতীয় শত্রুদের মনোবল চূর্ণ করতে পারে।
উল্লেখ্য, শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় জড়িত একজনকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের বিষয়ে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
আজ (শনিবার) ডিএমপি থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির সন্ধানদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং তাকে উপযুক্ত পুরস্কৃত করা হবে।