৮৮ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

Megna Tv

৪ দিন আগে শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬


#
শশীদল প্রাথমিক বিদ্যালয়।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আটযুগ পেরিয়ে গেলেও হয়নি নতুন কোনো ভবন। শুধু তাই নয়, বিদ্যালয়ের ভূমি দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন। যার ফলে বিভিন্ন জটিলতা পেরিয়ে নিজ জায়গায় ফিরতে পারছে না বিদ্যালয়টি। তাই ওই বিদ্যালয়ে নতুন ভবনও নির্মাণ হচ্ছে না। ফলে রোদবৃষ্টি-ঝড়ে জরাজীর্ণ আধাপাকা ভবনে চলছে পাঠদান। এতে দিন দিন কমে যাচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা। প্রাচীন এই বিদ্যালয়কে রক্ষা করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা শশীদল বাজারের সঙ্গে ১৯৩৫ সালে স্থাপিত হয় শশীদল প্রাথমিক বিদ্যালয়টি।

জানা গেছে, দাতা সদস্য তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান বাবরু মিয়া বিদ্যালয়ের জন্য ৭৩৪ দাগে ৩২ শতক জমি দান করেন। দানকৃত জায়গায়টি সে সময় ডোবা থাকার কারণে এই জমির পাশেই দাতা সদস্যের অন্য একটি ৭৩২ দাগের ১৬ শতক জমিতে সাময়িকভাবে তখন বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা পায়। পরে বিভিন্ন জটিলতায় নিজ জায়গায় আর ফিরতে পারেনি বিদ্যালয়টি। ফলে ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টিতে সরকারি অনুদানে একটি টিনের ঘর ও পরবর্তীকালে ১৯৮৬ সালে একটি আধাপাকা টিনশেড ও দুই রুমের আরেকটি ঘর নির্মাণ করা হলেও সমসাময়িক উন্নয়নের আর কোনো ছোঁয়া লাগেনি বিদ্যালয়ে। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত বিদ্যালয়ে আর কোনো আধুনিক ভবনও নির্মাণ হয়নি। যার ফলে জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। এতে করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানায়, ৮৮ বছরের পুরোনো বিদ্যালয়ে নতুন ভবন না হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে জমিসংক্রান্ত সমস্যা। বিদ্যালয়টি তার নিজ স্থানে নেই। বিদ্যালয়ের দলিলের জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন। আর যে স্থানে বিদ্যালয়টি দাঁড়িয়ে আছে ওই জায়গার দলিল নেই বিদ্যালয়ের নামে। ফলে সেখানে ভবন নির্মাণও সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে শশীদল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. রমিজ উদ্দিন বলেন, এখানে যে জায়গায় স্কুল ভবন নির্মাণ করার দরকার ছিল, সেখানে হয়নি। স্কুলের জমি দখল করে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন তৈরি করা হয়েছে। স্কুল যে জায়গায় আছে তার দলিল স্কুলের নামে নেই। এ সমস্যায় স্কুলের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের জায়গা উদ্ধারের জন্য বিগতদিনে অনেক বৈঠক হয়েছে দাতা সদস্যদের সঙ্গে, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ এলাকার সাধারণ মানুষ চায় বিদ্যালয়টি তার নিজ জায়গা ফেরত পাক। বিদ্যালয়ের নিজস্ব জায়গা বেদখলের কারণে এই বিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়ন থেমে আছে।

শশীদল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাহিদা ইসলাম